০৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

টেন্ডার হলেও তিন মাসে কাজ শুরু হয়নি দুর্ভোগে শ্রীমঙ্গল শাহিবাগ বাসী

নিউজ আপডেট
নিউজ আপডেট

_নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

*শ্রীমঙ্গল, ৫ মে:* টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাহীবাগ এলাকার হাজারো বাসিন্দা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

*সরেজমিনে দেখা গেছে*, আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শাহীবাগ ভেতরের গলি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যর ইট সলিং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে হাঁটু পানি জমে যায়। রাস্তাটি এখন চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

*স্থানীয়দের অভিযোগ*, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম খায়ের। কিন্তু টেন্ডার হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেননি। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

*স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠানও ভুক্তভোগী*: শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান *‘ইনপুট বাংলা’*। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩ শতাধিক তরুণ-তরুণী কর্মরত আছেন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার *জাকির হোসেন* বলেন, “আমাদের অফিসে ৩০০ এর বেশি ছেলে-মেয়ে কাজ করে। ক্লায়েন্ট মিটিংয়ের জন্য বিদেশি অতিথিরাও আসেন। এই ভাঙা রাস্তার কারণে সবাই বিরক্ত। গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারে না, বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে একাকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলি, কিন্তু অফিসের সামনের রাস্তাটাই চলার অযোগ্য। দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের ব্যবসায়িক সুনামও নষ্ট হবে।”

শাহীবাগের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক *সালাম মিয়া, ৪০*, বলেন, “প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যাত্রীসহ উল্টে গিয়ে হাত ভাঙছে এক মুরুব্বির। টেন্ডার হইছে শুনছি, কিন্তু কন্ট্রাক্টর খায়ের সাহেবের কোনো খবর নাই। আমরা গরিব মানুষ, কই যামু?”

স্কুলশিক্ষার্থী *সুমাইয়া আক্তার, ১১*, জানায়, “বৃষ্টি হলে রাস্তায় কাদা-পানি জমে। জামা-জুতা নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।”

এ বিষয়ে *উপজেলা প্রকৌশলী* আশ্বাস দিয়েছেন, খুব দ্রুতই সড়কের কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করলে এবং কাজে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার খায়েরের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহীবাগ এলাকার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, আইটি কর্মী ও পর্যটক চলাচল করেন। এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক। অন্যথায় বৃষ্টিতে রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:৪১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

টেন্ডার হলেও তিন মাসে কাজ শুরু হয়নি দুর্ভোগে শ্রীমঙ্গল শাহিবাগ বাসী

আপডেট: ০২:৪১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

_নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার

*শ্রীমঙ্গল, ৫ মে:* টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাহীবাগ এলাকার হাজারো বাসিন্দা। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা।

*সরেজমিনে দেখা গেছে*, আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শাহীবাগ ভেতরের গলি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যর ইট সলিং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে হাঁটু পানি জমে যায়। রাস্তাটি এখন চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

*স্থানীয়দের অভিযোগ*, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কার কাজের টেন্ডার হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম খায়ের। কিন্তু টেন্ডার হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেননি। ফলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

*স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠানও ভুক্তভোগী*: শাহীবাগ এলাকায় অবস্থিত স্বনামধন্য আইটি প্রতিষ্ঠান *‘ইনপুট বাংলা’*। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩ শতাধিক তরুণ-তরুণী কর্মরত আছেন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার *জাকির হোসেন* বলেন, “আমাদের অফিসে ৩০০ এর বেশি ছেলে-মেয়ে কাজ করে। ক্লায়েন্ট মিটিংয়ের জন্য বিদেশি অতিথিরাও আসেন। এই ভাঙা রাস্তার কারণে সবাই বিরক্ত। গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারে না, বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে একাকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলি, কিন্তু অফিসের সামনের রাস্তাটাই চলার অযোগ্য। দ্রুত সংস্কার না হলে আমাদের ব্যবসায়িক সুনামও নষ্ট হবে।”

শাহীবাগের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক *সালাম মিয়া, ৪০*, বলেন, “প্রতিদিন গর্তে পড়ে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যাত্রীসহ উল্টে গিয়ে হাত ভাঙছে এক মুরুব্বির। টেন্ডার হইছে শুনছি, কিন্তু কন্ট্রাক্টর খায়ের সাহেবের কোনো খবর নাই। আমরা গরিব মানুষ, কই যামু?”

স্কুলশিক্ষার্থী *সুমাইয়া আক্তার, ১১*, জানায়, “বৃষ্টি হলে রাস্তায় কাদা-পানি জমে। জামা-জুতা নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।”

এ বিষয়ে *উপজেলা প্রকৌশলী* আশ্বাস দিয়েছেন, খুব দ্রুতই সড়কের কাজ শুরু হবে। তিনি জানান, বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না করলে এবং কাজে কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদার খায়েরের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহীবাগ এলাকার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত চাকরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, আইটি কর্মী ও পর্যটক চলাচল করেন। এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দ্রুত সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হোক। অন্যথায় বৃষ্টিতে রাস্তাটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন।